এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ময়মনসিংহ জেলাধীন ফুলবাড়িয়া উপজেলা শাখার নবঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তুলে দলের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ১২ জন দায়িত্বশীল নেতাকর্মী।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) ফুলবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একযোগে পদত্যাগের এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নেতারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ঘোষিত উপজেলা আহ্বায়ক কমিটিতে এমন কিছু ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাদের রাজনৈতিক অতীত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মামলার আসামি এবং পূর্বে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তিকেও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
পদত্যাগকারী নেতাদের অভিযোগ, উপজেলা কমিটি গঠনের আগে স্থানীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা মতবিনিময় করা হয়নি। এ বিষয়ে জেলা নেতৃত্বকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও তাদের অভিযোগ ও আপত্তির কোনো কার্যকর সমাধান করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- এনসিপি ফুলবাড়িয়া উপজেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার সানাউল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ওমর শরীফ, যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নবী হোসেন।
তারা জানান, জুলাই আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি গঠনের শুরু থেকেই তারা সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। দলের আদর্শ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জুলাইয়ের চেতনার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তারা বর্তমান অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
তাদের ভাষ্য, একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। কিন্তু ফুলবাড়িয়া উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নবঘোষিত কমিটির প্রতিবাদ জানিয়ে মোট ১২ জন নেতাকর্মী ফুলবাড়ীয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এ সময় তারা জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জুলাই আন্দোলনের চেতনা, ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং সাংগঠনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
তবে এ বিষয়ে এনসিপির উপজেলা, জেলা বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।